৩৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসি যেন সময়কে হার মানিয়ে খেলেই চলেছেন। বয়স বাড়লেও মাঠে তার প্রভাব বা পারফরম্যান্সে কোনো ভাটা পড়েনি। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনির বিশ্বাস, মেসি যত দিন ফুটবল খেলবেন, তত দিনই বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের একজন হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রাখবেন।
বাংলাদেশ সময় রোববার (১২ জুলাই) সকাল ৭টায় কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচটির আগে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মেসির ভূয়সী প্রশংসা করেন স্কালোনি।
চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সাফল্যে মেসির অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শেষ ষোলোয় মিশরের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে নাটকীয় জয়ে তিনি একটি গোল করার পাশাপাশি আরেকটি গোলে সহায়তা করেন। ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা দলকে জয়ে ফেরাতে তার নেতৃত্ব ছিল অনন্য।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে পেশির চোট নিয়ে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও মাঠে নেমে সেই সব সংশয় উড়িয়ে দিয়েছেন ইন্টার মায়ামির এই তারকা। ম্যাচের পর ম্যাচ নিজের সেরাটা উপহার দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
মেসির ফিটনেস নিয়ে স্কালোনি বলেন, প্রতিটি ম্যাচেই তিনি একই মাত্রার পরিশ্রম করেন। দীর্ঘদিনের কঠোর অনুশীলন ও নিজের শরীরের প্রতি যত্নই তাকে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাহায্য করছে। তিনি আরও বলেন, যখন মেসি অনুভব করেন যে তিনি দলের জন্য পার্থক্য গড়ে দিতে পারছেন, তখন তিনি আরও বেশি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠেন।
বয়সের কারণে মেসির পারফরম্যান্স কমে যাবে—এমন ধারণার সঙ্গেও একমত নন আর্জেন্টিনা কোচ। তার মতে, যারা মেসিকে কাছ থেকে দেখেনি, তারাই এমনটা ভাবতে পারে। স্কালোনির বিশ্বাস, মেসি যত দিন মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেবেন, তত দিনই সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সক্ষমতা রাখবেন।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি মেসির জন্যও বিশেষ। কারণ, এই অ্যারোহেড স্টেডিয়ামেই এবারের বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। সেই ম্যাচে ৩-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা।
বর্তমানে বিশ্বকাপে ৮ গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন মেসি। পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসে ২১ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনও নিজের করে নিয়েছেন তিনি।
স্কালোনি জানান, প্রতিদিনের অনুশীলনে মেসির নিবেদন এখনো তাকে মুগ্ধ করে। তার ভাষায়, আজকের মেসিকে যারা দেখছেন, তারা হয়তো কল্পনাও করতে পারবেন না বার্সেলোনায় পেপ গার্দিওলার অধীনে তরুণ বয়সে তিনি কতটা বিস্ময়কর ছিলেন।
প্রতিবেদকের নাম 




















