চারপাশে বাঁশের খুঁটি, তার ওপর রঙিন পর্দা। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন চলছে। কিন্তু সেই পর্দার আড়ালেই চলছে পাকা ভবন নির্মাণের কাজ। অভিযোগ উঠেছে, জায়গাটি বাংলাদেশ রেলওয়ের সরকারি জমি।
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল ইউনিয়নের ভাদুলিয়া এলাকায় এমনই একটি ঘটনা নিয়ে তৈরি হয়েছে আলোচনা।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, রেলওয়ের জমির একটি অংশ বাঁশের খুঁটি ও রঙিন কাপড় দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। পর্দার ভেতরে রয়েছে ইট, বালু ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী। সেখানে শ্রমিকদের ভবন নির্মাণের কাজ করতেও দেখা যায়।
সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সহকারী কমিশনার ভূমি মিজ পাপিয়া সুলতানা লিজা। পরে তিনি ঘিরে রাখা পর্দা অপসারণ এবং নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্লোরিয়া বিশ্বাস মঞ্জু নামে এক নারী পর্দা দিয়ে জায়গাটি আড়াল করে ভবন নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এই জমিকে কেন্দ্র করে এর আগে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও মারামারির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তারা। বিষয়টি আদালত পর্যন্তও গড়িয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, রেলওয়ের অনুমোদন, বৈধ লিজের কাগজপত্র কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সরকারি জমিতে নির্মাণকাজ চলছে। এ ঘটনায় রেলওয়ের মাঠপর্যায়ের নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি, কাশিয়ানীর রাতইল ইউনিয়নের চাপ্তা, ঘোনাপাড়া ও ভাদুলিয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ের জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। কোথাও লিজের অজুহাতে, আবার কোথাও লিজের শর্ত ও মেয়াদ অমান্য করে সরকারি জমি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে গ্লোরিয়া বিশ্বাস মঞ্জু বলেন, তিনি রেলের জমিতে নয়, তাঁর নিজের মালিকানাধীন জমিতেই ভবন নির্মাণ করছেন।
অন্যদিকে, সহকারী কমিশনার ভূমি মিজ পাপিয়া সুলতানা লিজা বলেন, রেলের জমিতে স্থাপনা নির্মাণের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কাগজপত্র নিয়ে অফিসে আসতে বলা হয়েছে। জমি পরিমাপও করা হবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের পাকশী বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এ ধরনের কোনো অভিযোগ তাঁর কাছে আসেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এখন মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে—জায়গাটি আসলে কার মালিকানাধীন, সেখানে বৈধ লিজ বা অনুমোদন রয়েছে কি না এবং নির্মাণকাজটি নিয়ম মেনে হচ্ছে কি না। জমির রেকর্ড ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের পরই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
প্রতিবেদকের নাম 

























