ঢাকা ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
চাকরির প্রলোভনে তরুণীদের আটকে রাখার অভিযোগ, দম্পতিসহ গ্রেপ্তার ৫ প্রায় দুই বছর পর টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের সেরা দশে বাবর আজম মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের প্রতিবাদে রংপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ সালমান শাহ হত্যা মামলা নিয়ে বাদীকে হুমকি, ‘শাহরানকেও হত্যা করা হবে’ আ. লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের খবর গুজব: তথ্যমন্ত্রী মিশরে শ্রমিকবাহী দুই পিকআপের সংঘর্ষ, নিহত ১৮ বিএনপিকে ‘মাফিয়া-গোষ্ঠীনির্ভর’ কাঠামোয় পরিণত হওয়ার অভিযোগ পাটওয়ারীর মার্কিন রণতরীতে নৌসেনাদের সংঘর্ষ, ৭ জন নিহত শুটিংয়ের সময় হঠাৎ নাকে পরা নথ গিলে ফেললেন শেহনাজ গিল মহেশখালীতে এলএনজি সরবরাহে বড় ধাক্কা, চট্টগ্রামে ৪০ শতাংশ গ্যাস ঘাটতি
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

এক বছরে সেবা খাতে ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন: টিআইবির জরিপ

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৫:৪২:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • ২৪ সময় দেখুন

নিজস্ব প্রতিবেদক


দেশে বিভিন্ন সরকারি ও সেবাখাতে এক বছরে প্রায় ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকার ঘুষ লেনদেন হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) নমুনাকাঠামো ব্যবহার করে দেশের আটটি বিভাগের গ্রাম ও শহরাঞ্চলের ১ হাজার ১৪৯টি এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ১৮টি সেবা খাতের দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে।

আরও পড়ুনঃ  ইরানকে লক্ষ্য করে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নয়: তুরস্ক

জরিপ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মতো ২০২৫ সালেও পাসপোর্ট সেবা (৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ) ও বিআরটিএ (৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ) সবচেয়ে বেশি ঘুষ ও দুর্নীতিপ্রবণ খাত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর পর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, কৃষি, ভূমি এবং বিচারসংশ্লিষ্ট সেবা খাত।

টিআইবির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ১২৪ টাকা, যা ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কম। তবে জরিপে অংশ নেওয়া ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবার মনে করে, ঘুষ ছাড়া সরকারি সেবা পাওয়া কঠিন।

আরও পড়ুনঃ  সৌদি অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির পরিবার পাবে বিশেষ অনুদান

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুর্নীতির শিকার হলেও ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবার কোনো অভিযোগ করেনি। তাদের অনেকে মনে করেন, পুরো ব্যবস্থাই দুর্নীতিগ্রস্ত। আবার প্রায় অর্ধেক পরিবারেরই কোথায় এবং কীভাবে অভিযোগ করতে হয়, সে বিষয়ে ধারণা নেই।

জরিপে দেখা গেছে, গ্রামাঞ্চলের ৬৬ শতাংশ পরিবার ঘুষের শিকার হয়েছে, যেখানে শহরাঞ্চলে এ হার ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে ঘুষের পরিমাণের দিক থেকে শহরের পরিবারগুলোকে তুলনামূলক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো তাদের আয়ের তুলনায় বেশি ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, নাচোলে চার সরকারি দপ্তরে তালা

টিআইবি বলছে, বিচারহীনতা, জনসচেতনতার অভাব এবং দুর্নীতিতে জড়িতদের শাস্তির পরিবর্তে সুবিধা পাওয়ার সংস্কৃতি দুর্নীতির অন্যতম প্রধান কারণ। একই সঙ্গে নারী, আদিবাসী ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলেও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন খাতে ডিজিটাল সেবা চালু হলেও তা দুর্নীতি প্রতিরোধে পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতাদের এখনও দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা ঘুষ ও অনিয়মের সুযোগ অব্যাহত রাখছে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

চাকরির প্রলোভনে তরুণীদের আটকে রাখার অভিযোগ, দম্পতিসহ গ্রেপ্তার ৫

এক বছরে সেবা খাতে ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন: টিআইবির জরিপ

আপডেটের সময়: ০৫:৪২:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক


দেশে বিভিন্ন সরকারি ও সেবাখাতে এক বছরে প্রায় ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকার ঘুষ লেনদেন হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) নমুনাকাঠামো ব্যবহার করে দেশের আটটি বিভাগের গ্রাম ও শহরাঞ্চলের ১ হাজার ১৪৯টি এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ১৮টি সেবা খাতের দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে।

আরও পড়ুনঃ  সৌদি অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির পরিবার পাবে বিশেষ অনুদান

জরিপ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মতো ২০২৫ সালেও পাসপোর্ট সেবা (৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ) ও বিআরটিএ (৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ) সবচেয়ে বেশি ঘুষ ও দুর্নীতিপ্রবণ খাত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর পর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, কৃষি, ভূমি এবং বিচারসংশ্লিষ্ট সেবা খাত।

টিআইবির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ১২৪ টাকা, যা ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কম। তবে জরিপে অংশ নেওয়া ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবার মনে করে, ঘুষ ছাড়া সরকারি সেবা পাওয়া কঠিন।

আরও পড়ুনঃ  ইরানকে লক্ষ্য করে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নয়: তুরস্ক

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুর্নীতির শিকার হলেও ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবার কোনো অভিযোগ করেনি। তাদের অনেকে মনে করেন, পুরো ব্যবস্থাই দুর্নীতিগ্রস্ত। আবার প্রায় অর্ধেক পরিবারেরই কোথায় এবং কীভাবে অভিযোগ করতে হয়, সে বিষয়ে ধারণা নেই।

জরিপে দেখা গেছে, গ্রামাঞ্চলের ৬৬ শতাংশ পরিবার ঘুষের শিকার হয়েছে, যেখানে শহরাঞ্চলে এ হার ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে ঘুষের পরিমাণের দিক থেকে শহরের পরিবারগুলোকে তুলনামূলক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো তাদের আয়ের তুলনায় বেশি ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  এসএসসির ফলাফলে ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে মেয়েরা, জিপিএ-৫-এও ব্যবধান

টিআইবি বলছে, বিচারহীনতা, জনসচেতনতার অভাব এবং দুর্নীতিতে জড়িতদের শাস্তির পরিবর্তে সুবিধা পাওয়ার সংস্কৃতি দুর্নীতির অন্যতম প্রধান কারণ। একই সঙ্গে নারী, আদিবাসী ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলেও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন খাতে ডিজিটাল সেবা চালু হলেও তা দুর্নীতি প্রতিরোধে পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতাদের এখনও দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা ঘুষ ও অনিয়মের সুযোগ অব্যাহত রাখছে।