বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া এখনো শুরু না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ অনুষ্ঠানে তিনি এ উদ্বেগের কথা জানান।
মাইকেল মিলার বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কাজ করে যাবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নেও ইইউ সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘাত, সামরিক সরকারের দমন-পীড়ন ও নির্যাতনের কারণে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। এই সংকটের নয় বছর পূর্ণ হলেও এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাকেও স্থায়ীভাবে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে মিয়ানমারের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাহীনতাকে। নিজ দেশে ফেরার অধিকার থাকলেও সেখানে নিরাপদ ও টেকসইভাবে বসবাসের পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।
এদিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে কূটনৈতিক মিশনগুলোর পক্ষ থেকেও উদ্বেগ জানানো হয়েছে। এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে। এতে কক্সবাজারসহ সীমান্তবর্তী এলাকার স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ তৈরি হয়েছে। তাই রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নেও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইইউ রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে আবারও স্পষ্ট হলো, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি করাই এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে মিয়ানমারের চলমান অস্থিতিশীলতার কারণে সেই প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
প্রতিবেদকের নাম 




















