তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি অনেকটাই এগিয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেছেন, ২০২৭ সালে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে লালমনিরহাট জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির ‘নবীনবরণ ও বিদায় সংবর্ধনা-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতামতের পর শুরু হবে কাজ
তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক প্রচারণার সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে অনেকদূর এগিয়েছে। এটি বড় একটি প্রকল্প হওয়ায় শুরুতে নানা ধরনের অনুমাননির্ভর বক্তব্য ও আলোচনা ছিল। এখন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর দ্রুত বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা হবে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে লালমনিরহাটের সামগ্রিক চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদী ও এর আশপাশের এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ভাষা ও সংস্কৃতি ধরে রাখার আহ্বান
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে গর্ব করার আহ্বান জানান ত্রাণমন্ত্রী। তিনি রংপুর অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ভাওয়াইয়া গান ও আঞ্চলিক ভাষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, নিজেদের শিকড় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযোগ রেখে শিক্ষার্থীদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তায় ৫ লাখ টাকা
অনুষ্ঠানে লালমনিরহাটের দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ভর্তি সহায়তার জন্য ৫ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন আসাদুল হাবিব দুলু।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান, লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল, মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুল ইসলাম খোকন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লালমনিরহাট ছাত্রকল্যাণ সমিতির সভাপতি আজিজুল হাকিম আকাশ।
আনিসুল ইসলাম খোকন নবীন শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের মাধ্যমে পরিবার, সমাজ ও এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণের আহ্বান জানান। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে ২০ ও ২১ ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন অতিথিরা।
প্রতিবেদকের নাম 




















