ঢাকা ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

তিন দফা সময় বাড়িয়েও শেষ হয়নি ব্রিজের কাজ, দুর্ভোগে হাজারো কৃষক

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১০:১৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১১ সময় দেখুন

পাবনার ঈশ্বরদীর লক্ষীকুণ্ডা ইউনিয়নের চর কুড়ুলিয়া গনির ঘাটে ব্রিজ নির্মাণে নির্ধারিত সময়ের পর তিন দফা মেয়াদ বাড়ানো হলেও পুরোপুরি শেষ হয়নি সংযোগ সড়কের কাজ। বেড়েছে প্রকল্পের ব্যয়ও। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে চলা নির্মাণকাজে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দুই পাড়ের প্রায় ১০ গ্রামের হাজারো কৃষক ও বাসিন্দা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করা এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে দুর্ভোগ কমাতে ২০২১ সালের ১১ এপ্রিল চর কুড়ুলিয়া গনির ঘাটে ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ কোটি ৪ লাখ ১৩ হাজার ৭৪৯ টাকা। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২০২২ সালের ১০ অক্টোবরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রথম দফায় ২০২৩ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত, দ্বিতীয় দফায় ২০২৪ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। তিন দফা সময় বাড়ানোর পরও ব্রিজের সঙ্গে সংযোগ সড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় পুরোপুরি যোগাযোগব্যবস্থা চালু হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  খাগড়াছড়িতে বন্যার স্রোতে ভেসে বৃদ্ধের মৃত্যু

বেড়েছে প্রকল্পের ব্যয়

শুধু সময়ই নয়, বেড়েছে প্রকল্পের ব্যয়ও। সংশোধিত কার্যাদেশে মূল চুক্তিমূল্যের সঙ্গে আরও ৪৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা বাড়িয়ে প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ কোটি ৪৯ লাখ ৪৯ হাজার ৮৩৩ টাকা।

এদিকে ব্রিজের সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য আলাদা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৭০ লাখ ৪১ হাজার টাকা ব্যয়ে এই সংযোগ সড়কের কাজ শুরু হয়। চলতি বছরের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে কাজটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের পরও তা শেষ হয়নি।

কৃষিপণ্য পরিবহনে ভোগান্তি

ব্রিজ ও সংযোগ সড়কের কাজ দীর্ঘদিন ধরে চলায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। চর কুড়ুলিয়া গনির ঘাটের দুই পাশে থাকা প্রায় ১০টি গ্রামের কৃষকদের কৃষিপণ্য পরিবহনে দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।

সরাসরি যোগাযোগব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় অতিরিক্ত পথ ঘুরে ফসল পরিবহন করতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে সময় ও পরিবহন খরচ। বিশেষ করে ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারজাত করার মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আরও পড়ুনঃ  ফরিদপুরের শতবর্ষী কালীবাড়ি মন্দিরে চুরি, মূর্তি-স্বর্ণালঙ্কার খোয়া গেছে

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ চললেও এর সুফল পাচ্ছেন না তারা। দ্রুত কাজ শেষ করে নিরাপদ ও টেকসই যোগাযোগব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় কৃষক আজগর প্রামানিক বলেন, ওপারে তাদের শত শত বিঘা আবাদি জমি। ব্রিজ নির্মাণের কাজ শেষ না হওয়ায় তাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

আরেক কৃষক ইউসুফ মন্ডল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা এই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। জমিতে ভ্যান নিয়ে যেতে না পারলে কৃষিপণ্য পরিবহনেও সমস্যা হয়। দ্রুত ব্রিজসহ দুই পাশের রাস্তা সংস্কারের দাবি জানান তিনি।

নির্মাণকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন

ব্রিজ নির্মাণকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, ব্রিজের কিছু অংশে কাজ শেষ হওয়ার আগেই ভাঙন বা ক্ষতির চিহ্ন দেখা দিয়েছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর কাজ যথাযথ মান বজায় রেখে করা হয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  ভারত থেকে ১৮ বাংলাদেশির প্রত্যাবর্তন, এক বছর বয়সী সন্তানসহ ফিরল কিশোরী

স্থানীয় বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পাঁচ থেকে ছয় বছর ধরে ব্রিজের নির্মাণকাজ চলছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কাজের অগ্রগতি খুবই কম। উদ্বোধনের আগেই ব্রিজে ওঠার অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং রাস্তার পিচ উঠে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

ব্রিজ নির্মাণকাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে যশোরের আইসিএল প্রাইভেট লিমিটেড। অন্যদিকে সংযোগ সড়কের কাজ করছে মেসার্স সামিহা এন্টারপ্রাইজ।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুটির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দ্রুত কাজ শেষের আশ্বাস এলজিইডির

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, ব্রিজ নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। সংযোগ সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হবে।
T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

তিন দফা সময় বাড়িয়েও শেষ হয়নি ব্রিজের কাজ, দুর্ভোগে হাজারো কৃষক

আপডেটের সময়: ১০:১৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাবনার ঈশ্বরদীর লক্ষীকুণ্ডা ইউনিয়নের চর কুড়ুলিয়া গনির ঘাটে ব্রিজ নির্মাণে নির্ধারিত সময়ের পর তিন দফা মেয়াদ বাড়ানো হলেও পুরোপুরি শেষ হয়নি সংযোগ সড়কের কাজ। বেড়েছে প্রকল্পের ব্যয়ও। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে চলা নির্মাণকাজে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দুই পাড়ের প্রায় ১০ গ্রামের হাজারো কৃষক ও বাসিন্দা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করা এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে দুর্ভোগ কমাতে ২০২১ সালের ১১ এপ্রিল চর কুড়ুলিয়া গনির ঘাটে ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ কোটি ৪ লাখ ১৩ হাজার ৭৪৯ টাকা। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২০২২ সালের ১০ অক্টোবরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রথম দফায় ২০২৩ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত, দ্বিতীয় দফায় ২০২৪ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। তিন দফা সময় বাড়ানোর পরও ব্রিজের সঙ্গে সংযোগ সড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় পুরোপুরি যোগাযোগব্যবস্থা চালু হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  খাগড়াছড়িতে বন্যার স্রোতে ভেসে বৃদ্ধের মৃত্যু

বেড়েছে প্রকল্পের ব্যয়

শুধু সময়ই নয়, বেড়েছে প্রকল্পের ব্যয়ও। সংশোধিত কার্যাদেশে মূল চুক্তিমূল্যের সঙ্গে আরও ৪৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা বাড়িয়ে প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ কোটি ৪৯ লাখ ৪৯ হাজার ৮৩৩ টাকা।

এদিকে ব্রিজের সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য আলাদা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৭০ লাখ ৪১ হাজার টাকা ব্যয়ে এই সংযোগ সড়কের কাজ শুরু হয়। চলতি বছরের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে কাজটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের পরও তা শেষ হয়নি।

কৃষিপণ্য পরিবহনে ভোগান্তি

ব্রিজ ও সংযোগ সড়কের কাজ দীর্ঘদিন ধরে চলায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। চর কুড়ুলিয়া গনির ঘাটের দুই পাশে থাকা প্রায় ১০টি গ্রামের কৃষকদের কৃষিপণ্য পরিবহনে দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।

সরাসরি যোগাযোগব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় অতিরিক্ত পথ ঘুরে ফসল পরিবহন করতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে সময় ও পরিবহন খরচ। বিশেষ করে ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারজাত করার মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আরও পড়ুনঃ  এনসিটি ইজারা নিয়ে লাভ-ক্ষতির হিসাব প্রকাশের দাবি শ্রমিক নেতাদের

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ চললেও এর সুফল পাচ্ছেন না তারা। দ্রুত কাজ শেষ করে নিরাপদ ও টেকসই যোগাযোগব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় কৃষক আজগর প্রামানিক বলেন, ওপারে তাদের শত শত বিঘা আবাদি জমি। ব্রিজ নির্মাণের কাজ শেষ না হওয়ায় তাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

আরেক কৃষক ইউসুফ মন্ডল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা এই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। জমিতে ভ্যান নিয়ে যেতে না পারলে কৃষিপণ্য পরিবহনেও সমস্যা হয়। দ্রুত ব্রিজসহ দুই পাশের রাস্তা সংস্কারের দাবি জানান তিনি।

নির্মাণকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন

ব্রিজ নির্মাণকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, ব্রিজের কিছু অংশে কাজ শেষ হওয়ার আগেই ভাঙন বা ক্ষতির চিহ্ন দেখা দিয়েছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর কাজ যথাযথ মান বজায় রেখে করা হয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  উদ্বোধনের দুই মাসেই ধস ৬ কোটি টাকার সেতুর সংযোগ সড়কে

স্থানীয় বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পাঁচ থেকে ছয় বছর ধরে ব্রিজের নির্মাণকাজ চলছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কাজের অগ্রগতি খুবই কম। উদ্বোধনের আগেই ব্রিজে ওঠার অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং রাস্তার পিচ উঠে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

ব্রিজ নির্মাণকাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে যশোরের আইসিএল প্রাইভেট লিমিটেড। অন্যদিকে সংযোগ সড়কের কাজ করছে মেসার্স সামিহা এন্টারপ্রাইজ।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুটির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দ্রুত কাজ শেষের আশ্বাস এলজিইডির

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, ব্রিজ নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। সংযোগ সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হবে।